শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশংসনীয় উদ্যোগ- ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করতে অবহিতকরণ সভা

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশংসনীয় উদ্যোগ- ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করতে অবহিতকরণ সভা

আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর)


‎আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬’ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গাজীপুরের শ্রীপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। এই ক্যাম্পেইনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনফারেন্স রুমে এক বিশেষ অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎​জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এ সভাটি ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত। সভায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, শিশুর দৃষ্টিশক্তি রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টির অভিশাপ থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এই ক্যাম্পেইনের কোনো বিকল্প নেই।

‎​সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম। সভায় আরও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তোফায়েল আহমেদ ও ডা. বিজন মালাকারসহ স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভায় উপজেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, মাঠ পর্যায়ের নিবেদিতপ্রাণ স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

‎​অবহিতকরণ সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যপদ্ধতি নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন কৌতূহলী প্রশ্নের খোলামেলা ও সঠিক সমাধানমূলক উত্তর দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম। তার সুচিন্তিত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যায় ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন জটিল বিষয় ও পরিকল্পনা সাংবাদিকদের কাছে আরও স্বচ্ছ হয়ে ওঠে, যা সভায় উপস্থিত সবার আস্থা অর্জন করে।

‎​ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, শ্রীপুর উপজেলায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার ২১৮টি টিকাদান কেন্দ্রে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

‎​উপস্থিত সাংবাদিকরা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই সুপরিকল্পিত উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বক্তারা অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২৮ জুন নির্ধারিত দিনে শিশুকে কাছের কেন্দ্রে নিয়ে আসা অভিভাবকদের নৈতিক দায়িত্ব।

‎​হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন দূরদর্শী পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাবলীল নেতৃত্ব এবং সমন্বিত পদক্ষেপ শ্রীপুর উপজেলাকে শিশুমৃত্যু রোধ ও পুষ্টিমান উন্নয়নে একধাপ এগিয়ে রাখবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.