জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়াই শ্রীপুরে ৯৩ কোটির বাজেট- ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ, প্রশ্নবিদ্ধ স্বচ্ছতা

জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়াই শ্রীপুরে ৯৩ কোটির বাজেট- ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ, প্রশ্নবিদ্ধ স্বচ্ছতা


আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:


‎​গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯২ কোটি ৯৭ লাখ ৫৯ হাজার ১৭৩ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বড় অঙ্কের এই বাজেট ঘিরে এখন পুরো পৌর এলাকা জুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বা নাগরিকদের কোনো প্রকার অংশগ্রহণ ছাড়াই অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই বাজেট ঘোষণাকে স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক নেতারা দেখছেন ‘দায়সারা’ এবং ‘স্বচ্ছতাহীন’ প্রক্রিয়া হিসেবে।

‎​মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ের সভাকক্ষে পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞা এই বাজেট ঘোষণা করেন। একই সাথে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৪৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৯১৭ টাকার সংশোধিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ না করা হলেও, বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ‘একপেশে’ আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে চারদিকে।

‎আইন অনুযায়ী বাজেট ঘোষণার আগে উন্মুক্ত আলোচনা ও নাগরিক মতবিনিময়ের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, এ ক্ষেত্রে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। মাত্র ৩০ মিনিটের এই আয়োজনে কোনো নাগরিক, পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
‎​শ্রীপুর পৌর সচেতন নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সাধারণ মানুষকে দূরে রেখে এভাবে বাজেট প্রণয়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি নাগরিকদের অধিকারের পরিপন্থী।”

‎​ শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ও মেয়র প্রার্থী বিল্লাল হোসেন বেপারী বলেন, “আমাদের জানার অধিকার আছে। সবাইকে নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হতো।”
‎​গাজীপুর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও মেয়র প্রার্থী এস এম আবুল কালাম আজাদ এবং অন্যান্য মেয়র প্রার্থী ডা. সফিকুল ইসলাম ও ড. মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ এ ঘটনাকে প্রশাসনের ‘সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
‎​
‎বাজেট অনুষ্ঠানে নাগরিকদের অনুপস্থিতি ও লুকোচুরি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে পৌর প্রশাসক ও ইউএনও মো. নাহিদ ভূঞা বলেন, “আমাদের কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। লুকোচুরির কিছু নেই, থাকলে আপনাদের দাওয়াত দিতাম না।”
‎​তবে প্রশাসকের এই মন্তব্যে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা।

‎ অনুষ্ঠানেই দেখা গেছে আর্থিক হিসাবের গরমিল। বিগত বছরের আনুষাঙ্গিক খরচের ১২ লাখ টাকার উৎস বা ব্যাখ্যা জানতে চাইলে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরবর্তীতে পৌর প্রশাসক প্রতিটি খরচ যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশনা দিলেও, বাজেট ঘোষণার শুরুতেই এমন অস্পষ্টতা জনমনে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি করেছে।

‎​শ্রীপুরের নাগরিকরা মনে করছেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যদি শুরুতেই সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রাখা হয়, তবে এই বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছাবে—তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়। এখন প্রশ্ন উঠেছে, জনঅংশগ্রহণহীন এই বাজেট আদৌ কি পৌরসভার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published.