
মাহমুদুল হাসান চন্দন:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে দুটি স্পিডবোটে আগুন দেওয়ার পর সেগুলো মাঝনদীতে ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নসংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জলদস্যুদের দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনার কথাও জানিয়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার কয়েকজন চাষি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আরকান্দি, লিসেনদিয়ার ও মাধবপুর এলাকার সীমান্তসংলগ্ন পদ্মা নদীতে চারটি স্পিডবোট চলাচল করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ অপর পক্ষের দুটি স্পিডবোটকে ধাওয়া করে। ধাওয়ার মুখে স্পিডবোট দুটির আরোহীরা নদীতীরে বোট রেখে পালিয়ে যান। পরে প্রতিপক্ষের লোকজন বোট দুটিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার সময় পদ্মা নদীর তীরবর্তী পানবরজে কাজ করছিলেন কয়েকজন কৃষক। তাঁরা একাধিকবার গুলির শব্দ শুনতে পান। কিছুক্ষণ পর নদীর ওপর আগুনের কুণ্ডলী ও কালো ধোঁয়া দেখতে পান তাঁরা। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন নেভানোর পর আরেকটি স্পিডবোট ঘটনাস্থলে আসে। পরে সেটির সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্পিডবোট দুটি টেনে মাঝনদীতে নিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।এ ঘটনায় হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্পিডবোট দুটির মালিকানা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ বলেন, তাঁরা ঘটনাটি শুনেছেন। তবে বিষয়টি নৌ-পুলিশের অধিক্ষেত্রভুক্ত হওয়ায় নৌ-পুলিশ প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি মিটিংয়ে রয়েছেন বলে জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। ফলে এ বিষয়ে নৌ-পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply