সমন্বিত প্রচারণাই বাউবির শিক্ষা বিস্তারের মূল শক্তি” — বাউবির উপাচার্য

সমন্বিত প্রচারণাই বাউবির শিক্ষা বিস্তারের মূল শক্তি” — বাউবির উপাচার্য


নজমুল হক, স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর


বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্রে বাউবির বিভিন্ন প্রোগ্রামের সমন্বয়কারীদের সাথে প্রমোশনাল কাজ সম্পর্কিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ মে রবিবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্রে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। উপাচার্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্র ও এর আওতাধীন বিভিন্ন উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের কর্লমকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং চলমান প্রোগ্রামসমূহের স্টাডি সেন্টারের সমন্বয়কারীদের উপস্থাপিত কথাগুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং গভীরভাবে তা উপলব্ধি করে তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,” বাউবির শিক্ষা কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সমন্বিত প্রচার কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রান্তিক, দরিদ্র ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছে। তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, আর্থিক সংকট ও সরকারি সহযোগিতার সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের মাত্র ৫ শতাংশ সরকার থেকে আসে, বাকি অর্থ শিক্ষার্থীদের টিউশন ও পরীক্ষা ফি থেকে পরিচালিত হয়। এছাড়া বিগত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে নেওয়ায় আর্থিক সংকট আরও বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন”।
উপাচার্য ড. খান বলেন, “শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই এখন বাউবির প্রধান লক্ষ্য। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণা দূর করে শিক্ষা কার্যক্রমের গুণগত মান উন্নয়নে কাজ চলছে। একই সঙ্গে সেশনজট নিরসন, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, স্টাডি মেটেরিয়াল সময়মতো পৌঁছে দেওয়া, নাম সংশোধন ও স্ক্রুটিনি সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্মানী প্রদানে দীর্ঘসূত্রিতা দূর করতে ওয়ান স্টপ সার্ভিসভিত্তিক সফটওয়্যার চালুর কাজ চলছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, মাঠপর্যায়ের সমন্বয়কারীরাই বাউবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার ও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। তাদের সহযোগিতার মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা জোরদারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাউবিমুখী না হয়ে উন্মুক্ত শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। শিক্ষকদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন”।


উপাচার্য আরও বলেন, “শিক্ষার্থীবান্ধব ও সময়োপযোগী শিক্ষা বিস্তারে বাউবির বিভিন্ন প্রোগ্রামের ইতিবাচক দিকগুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে সমন্বয়কারীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে”।

বাউবির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোঃ শাহ আলম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম-এর উপাচার্য প্রফেসর এস এম নছরুল কদির, সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ বাউবি এমবিএ (বাংলা) প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী অধ্যাপক আব্দুস সালাম হাওলাদার ও ফরহাদাবাদ স্কুল এন্ড কলেজ, হাটহাজারী, চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ ও বাউবি এসএসসি প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী জনাব মোঃ মাহবুবুল আলম।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব টি এম আহমেদ হুসেইন।সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ষোলশহর জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা চট্টগ্রাম-এর উপাধ্যক্ষ ও বাউবির বিএমএড প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী জনাব ড. এ.টি.এম লিয়াকত আলী, সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বাউবির বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী মো: শামীম কবির, বিজয় স্মরণী কলেজ স্টাডি সেন্টার, ভাটিয়ারী, চট্টগ্রাম-এর অধ্যক্ষ ও সমন্বয়কারী জনাব শিব শংকর শীল ও রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম-এর সহকারী অধ্যাপক জনাব ড. মুহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শিক্ষার্থীসেবা কার্যকর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) কর্তৃপক্ষের নিকট চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্র ও এর আওতাধীন উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নমূলক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।


প্রস্তাবসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ওসাপস থেকে প্রশ্নপত্রের চাহিদা স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, জনবল সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদে জনবল নিয়োগ, পরীক্ষকদের তথ্য ও পারফরম্যান্সভিত্তিক হালনাগাদ ব্যবস্থা, আধুনিক কম্পিউটার ও কালার প্রিন্টার সরবরাহ।


এছাড়া পটিয়া উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রে জনবল সংকট ও নিজস্ব ভবনের অভাব এবং বান্দরবান উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রে প্রমোশনাল ও রক্ষণাবেক্ষণ বাজেট বরাদ্দ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডায়েরি-ক্যালেন্ডার সরবরাহ বৃদ্ধি ও উৎসব খাতে বাজেট প্রদানের দাবি জানানো হয়। সভায় আঞ্চলিক কেন্দ্র, উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র ও বিভিন্ন প্রোগ্রাম সমন্বয়কারীরা উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাউবি কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।
উপাচার্য সমস্যাগুলো এবং তা নিরসনের জন্য যৌক্তিক প্রস্তাবসমূহ লিখিত আকারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।একই সঙ্গে তিনি এ চাহিদা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।


সভায় বাউবির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্র ও তার আওতাধীন খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজার উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী, একাডেমিক বিভিন্ন প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী ও টিউটরগণ অংশগ্রহণ করেন। এসময় বাউবির শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার, শিক্ষার্থী ভর্তিবৃদ্ধি, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রমোশনাল কার্যক্রম জোরদারকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.