
নজমুল হক, গাজীপুর
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেছেন, “কোনো জাতির বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অধিকাংশই নির্ভর করে সেই জাতির গণিতে দক্ষতার ওপর।” শনিবার (২৫ই জুলাই) ডুয়েটের গণিত বিভাগ ও ম্যাথ ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ গণিত উৎসব ন্যাশনাল ম্যাথমেটিক্স কার্নিভাল ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “আজকের এই কার্নিভাল কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের যুক্তিবাদী ও বিশ্লেষণী মনন গঠনের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। গণিত একাডেমিক বিষয়ের পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিরও মূল চালিকাশক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং আজ যে বিস্ময়কর অগ্রগতি দেখাচ্ছে তার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে পরিসংখ্যান, ক্যালকুলাস ও লিনিয়ার অ্যালজেব্রা। তথ্য নিরাপত্তা ও সাইবার সিকিউরিটির মূলে রয়েছে সংখ্যাতত্ত্ব ও ক্রিপ্টোগ্রাফি। মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস, চিকিৎসাবিজ্ঞানে জিনোম সিকোয়েন্সিং কিংবা প্রকৌশলের জটিলতম নকশা- সবকিছুর মূলে গাণিতিক মডেলিং কাজ করছে। মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় গণিতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। এটি অনায়াসেই বলা যায় যে, একটি জাতির বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অধিকাংশে নির্ভর করে গণিতে সেই জাতির দক্ষতার ওপর।”
তিনি আরও বলেন, “ডুয়েট সবসময় প্রকৌশল শিক্ষার পাশাপাশি মৌলিক বিজ্ঞান ও গণিতচর্চাকে উৎসাহিত করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির এই যুগে গণিতচর্চাকে জনপ্রিয় করে তুলতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাতে প্রতি বছর এই কার্নিভাল আয়োজনের বিকল্প নেই।” বর্ণাঢ্য এ উদ্যোগের জন্য তিনি গণিত বিভাগ ও ম্যাথ ক্লাবকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং আজকের আয়োজনে অংশগ্রহণকারী প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।সকালে ডুয়েটের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কার্নিভাল শুরু হয়। ডুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার কার্নিভালের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, “গণিত হলো বিজ্ঞানের ভাষা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হোক বা রোবোটিক্স, আধুনিক প্রযুক্তির যে কোনো অগ্রগতির মূলে রয়েছে গাণিতিক মডেলিং ও যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা। শিক্ষার্থীদের স্কুলজীবন থেকেই গণিতের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে পারলে তারা ভবিষ্যতে যে কোনো জটিল সমস্যা সমাধানে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। এ ধরনের কার্নিভাল সেই ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু নঈম শেখের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী সালমা আখতার, বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, ডুয়েট ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাহাব উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আজমল হোসেন, ডুয়েট ম্যাথ ক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোছা. নাসরিন আখতার, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির পরিচালক (অর্থ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুল হক। অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক জনাব আনিসুল হক। ম্যাথ ক্লাবের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ক্লাব সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ রতন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রাফিউজ্জামান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালকবৃন্দ এবং গণিত বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।কার্নিভালে সারাদেশের প্রায় দেড়শো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী গণিত অলিম্পিয়াড, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা ও ম্যাথ গেমসের মতো নানা আয়োজনে অংশ নেয়। বিকেলে সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে কার্নিভালের সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply