
প্রতিবেদক মোঃ রাকিব হোসেন
সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধে দণ্ড কার্যকর, বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কূটনৈতিক ব্যাখ্যা চায় ঢাকা।সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তিন দিনের মাথায় আরও পাঁচ সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার দেশটির পূর্বাঞ্চলে এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ নাগরিক সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশি একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগদান, নিরাপত্তা বাহিনী ও নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলা, অস্ত্র ও বোমা ব্যবহার এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়ন ও সহায়তার অভিযোগ ছিল। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন। আপিলের পর সর্বোচ্চ আদালতে রায় বহাল থাকা এবং রাজকীয় আদেশ জারির পর দণ্ড কার্যকর করা হয় বলে Arab News ও Khaleej Times-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাঁচ সৌদি নাগরিকের পরিচয় প্রকাশ
Khaleej Times-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া পাঁচজন হলেন মোহাম্মদ বিন মুনির বিন মোহাম্মদ আল জাহির, আলী বিন আবদুলরাব আল হুসেইন আল শেখ, হাসান বিন জাকি বিন মোহাম্মদ আল ফারাজ, রিদা বিন মোহাম্মদ বিন আলী আল আবদুল্লাহ এবং আলী বিন হাসান বিন আহমেদ আল রাবিহ।সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তাঁদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী, নিরাপত্তা স্থাপনা ও যানবাহন লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা ব্যবহারের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্র ও জীবন্ত গোলাবারুদ রাখা এবং দেশটির ভেতরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন ও সহায়তা করার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।তবে প্রকাশিত সংবাদে মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নথি পাওয়া যায়নি। ফলে সরকারি বিবৃতিতে উল্লিখিত অভিযোগের বাইরে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত।
এর আগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
এর আগে ১৪ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি আরব। India Today ও Khaleej Times-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের নাম নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার।সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তদন্তের পর মামলা আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হয়।তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত বিবৃতিতে কথিত অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিবরণ এবং ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি প্রকাশ করেনি। তাই অভিযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে এর বেশি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে আগাম জানানো হয়নি
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনকে আগে থেকে অবহিত করা হয়েছিল কি না।
India Today ও Khaleej Times-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে বাংলাদেশের কনস্যুলেটকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে জানানো হয়নি। বাংলাদেশি কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে দুই বাংলাদেশির মামলার বিস্তারিত বিবরণ, বিচারপ্রক্রিয়ার নথি এবং কূটনৈতিক মিশনকে আগে থেকে অবহিত না করার কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হলে তাঁর কনস্যুলার সহায়তা, পরিবারকে অবহিত করা এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে দূতাবাসের কাছে তথ্য পৌঁছানোর বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
দুটি ঘটনা, আলাদা প্রেক্ষাপট
একই সপ্তাহে দুই বাংলাদেশি ও পাঁচ সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হলেও, দুটি মামলার অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট আলাদা। পাঁচ সৌদি নাগরিকের মামলা ছিল সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধের, আর দুই বাংলাদেশির মামলাটি ছিল মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে।
তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় কূটনৈতিক মিশনকে আগাম না জানানোর অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাব এবং বাংলাদেশের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপই স্পষ্ট করবে, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে কতটা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
সূত্র:আরব নিউজ,রয়টার্স ,খালিজ, টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে

Leave a Reply