প্রেমের সম্পর্কের করুণ পরিণতি, ডলি হত্যা রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই

প্রেমের সম্পর্কের করুণ পরিণতি, ডলি হত্যা রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ডলি আক্তারকে হত্যার পর মরদেহ দ্বিখণ্ডিত করে খালে ফেলে গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রযুক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে সংস্থাটি।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, নিহত ডলি আক্তারের সঙ্গে মো. মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় গেলে তাদের মধ্যে পূর্বের বিরোধ ও বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিশন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মিশনের দেওয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। জবানবন্দি অনুযায়ী, ডলিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে লুঙ্গি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে এবং বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহটি ঘরের চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

হত্যার পর মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করে অভিযুক্তরা। পরদিন বটি দা ও ব্লেড ব্যবহার করে মরদেহ কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। পরে মরদেহের একাংশ স্যুটকেসে এবং অন্য অংশ বস্তায় ভরে বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনের সহযোগিতায় ভবানীপুর ব্রিজ এলাকার একটি খালে ফেলে দেওয়া হয়।

তবে মরদেহ গুমের চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি। পিবিআই গাজীপুর জেলার তদন্তে ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।

পিবিআই, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, মরদেহটি অজ্ঞাত ও পচনশীল অবস্থায় থাকায় প্রথমদিকে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা বেশ কঠিন ছিল। তবে ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিশ্বস্ত সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্তসহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অপরাধীরা যত কৌশলেই অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করুক না কেন, পেশাদার ও বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব।

পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিরা বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ সালের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.