স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) সদর থানার একটি আলোচিত হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।মামলার বিবরণতে জানা যায় ২০২৩ সালের ১৩ মে সন্ধ্যায় মাসুদ রানা কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। পথে শাওন মিয়াসহ কয়েকজন তার গতিরোধ করে এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে মাসুদ রানা হামলাকারীদের নাম বলে যান, যার একটি খণ্ডিতাংশ ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এ ঘটনায় জিএমপি সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে তার পরিবার। দীর্ঘ ২ বছর ১০ মাস তদন্ত চলার পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলাটি পিবিআই-তে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই গাজীপুর জেলার একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১২ এপ্রিল চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত শাওন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই-।জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে এক তুচ্ছ ঘটনার নেপথ্য কাহিনী। বিরোধের উৎস মাত্র ২০০ টাকার লেনদেন নিয়ে মাসুদের সাথে শাওনের বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে শাওন মিয়া নিহত মাসুদের কাছ থেকে ছুরি কেড়ে নিয়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানিয়েছেন।গাজীপুর পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মোঃ আবুল কালাম আজাদের সরাসরি দিকনির্দেশনায় মামলাটির রহস্য উদঘাটিত হয়। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই খুনের রহস্য উন্মোচন হওয়ায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং পুলিশের প্রতি জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
এ বিষয়ে পিবিআই পুলিশ সুপার মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, আলোচিত পরিকল্পিত এই হত্যাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, স্থানীয় সোর্স থেকে পাওয়া তথ্য, পারিপার্শ্বিক বিশ্লেষণ এবং পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

Leave a Reply