নজমুল হক, স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অধিভুক্ত কলেজগুলোর যোগাযোগ সহজীকরণ এবং প্রশাসনিক, ভর্তি, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ কার্যক্রম স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সম্পাদনের মাধ্যমে সেশনজট কমাতে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন। এজন্য বিভাগীয় শহর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগে সর্বশেষ যুক্ত হলো বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে ময়মনসিংহ সদরের আমলীতলার মধ্য বাড়েরা গ্রামের আদুর বাড়ি বাইলেন সড়কের এক নম্বর বাড়িতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এবং প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এসময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
ময়মনসিংহ জেলা ছাড়াও জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সকল কলেজ ও প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবধরণের কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।
এ উপলক্ষে ময়মনসিংহ টাউন হল অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান, ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন এবং ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মমতাজ জাহানের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মোঃ আমিনুল আক্তার। বক্তারা জানান, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সেবা কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জানান, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখী করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যলয় নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহন ও বাস্তবায়ন করছে। খুব শিগগিরই এসব উদ্যোগের সুফল পাবে ছাত্র-ছাত্রীরা। তিনি বলেন, শিক্ষাখাতকে দেশের উন্নয়নে ব্যবহার করতে হলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ ও গবেষণা বাড়ানো প্রয়োজন, যা ব্যয়বহুল। তাই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত ও তা টেকসই করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত তিন শতাংশ বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন।

Leave a Reply