শ্রীপুরে পৈতৃক জমি জবরদখল ও মাদ্রাসার মালামাল লুটের অভিযোগ- শিক্ষককে মারধর

শ্রীপুরে পৈতৃক জমি জবরদখল ও মাদ্রাসার মালামাল লুটের অভিযোগ- শিক্ষককে মারধর


আশিকুর রহমান সবুজ,​শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের পৈতৃক জমি জবরদখল, বসতবাড়ি ভাঙচুর, মসজিদের মালামাল ও দোকানের আসবাবপত্র লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বাধা দেওয়ায় ওই শিক্ষককে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।

‎এই ঘটনায় ভুক্তভোগী হাফেজ ক্বারী মোঃ শামসুল হক বাদী হয়ে তাঁর সহোদর ভাই ও ভাতিজাসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
‎​অভিযোগকারী হাফেজ ক্বারী মোঃ শামসুল হক কাপাসিয়া থানার কামারগাঁও হামীদুস সুন্নাহ কওমী মাদ্রাসার আরবি শিক্ষক।

‎​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১নং বিবাদী আফছার উদ্দিন (৪২) বাদীর আপন ভাই এবং ২ ও ৩ নং বিবাদী তাঁর আপন ভাতিজা। বাদীর কোনো সন্তান না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পৈত্রিক সূত্রে খরিজ করা জমি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা ও খুন-জখমের হুমকি দিয়ে আসছিল বিবাদীরা। গত ৯ মে (২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বাদী তাঁর পৈত্রিক মালিকানাধীন ফরিদপুর সংলগ্ন ধনুয়া মৌজার ১৭.৫০ শতাংশ জমি শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জনাব মোঃ হারুন আল রশিদের কাছে বায়না সূত্রে দখল বুঝিয়ে দেন। ক্রেতা হারুন আল রশিদ জমিতে বেড়া ও টিনশেড ঘর নির্মাণের জন্য মালামাল নিয়ে কাজ শুরু করলে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে।

‎​এ সময় বাধা দিলে বিবাদীরা শিক্ষক শামসুল হক ও ক্রেতা হারুন আল রশিদকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক নীলাফুলা জখম করে। পরবর্তীতে বিবাদীরা জমিটি থেকে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা মূল্যের নির্মাণ সামগ্রী পিকআপ ভ্যানে করে তুলে নিয়ে যায়। একই সাথে বাদীর পুরাতন বসত বাড়ি ভাঙচুর করে প্রায় ২ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ক্রোকারিজ মালামাল লুট করে।

‎​এখানেই শেষ নয়, ঘটনার পরদিন ১০ মে (২০২৬) সকাল ১০টার দিকে বিবাদীরা পুনরায় বাদীর টিনশেড হাফ বিল্ডিং বসত বাড়ি ও ফার্নিচারের দোকানের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। দোকান থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ২০টি বিভিন্ন ডিজাইনের কাঠের খাট (যার আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা) এবং ওয়াকফে করা জমিতে মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য রাখা ৪০ বান নতুন ঢেউ টিন (মূল্য ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা) লুট করে নিয়ে যায়।

‎​ভুক্তভোগী শিক্ষক শামসুল হক অভিযোগ করেন, এর আগেও আনুমানিক দুই মাস পূর্বে তাঁর ওয়াকফে করা জমিতে নির্মিত টিনশেড মসজিদ ভেঙে চালের টিন এবং আজান দেওয়ার মাইকসহ সব মালামাল লুটে নেয় বিবাদীরা। তৎকালীন সময়ে মসজিদের ইমাম মাওলানা তারিকুল ইসলাম বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরবর্তীতে তারা বাদীর জমি থেকে করাত ও কুড়াল দিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৩০টি বিভিন্ন প্রজাতির বড় গাছ কেটে নিয়ে যায়।

‎​বাদীর ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদীরা জমি ছেড়ে চলে যায় এবং এই জমিতে কেউ আসলে তাকে খুন করা হবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেয়। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এই শিক্ষক।

‎​শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.