গাজীপুরে মাদকের অপব্যবহার ও পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালন

গাজীপুরে মাদকের অপব্যবহার ও পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালন

নজমুল হক, গাজীপুর


মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গাজীপুরে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে সচেতনতামূলক কর্মসূচি। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, গাজীপুরের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে জয়দেবপুর গাজীপুরে নাটমন্দিরে অনুষ্ঠিত সচেতনতামূলক র‍্যালিতে জেলার বিভিন্ন মাদকাসক্তি চিকিৎসা, নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের কর্মকর্তা, কর্মচারী, চিকিৎসক, কাউন্সেলর ও পুনর্বাসনপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অংশ নেন। র‍্যালি শেষে জয়দেবপুর নাটমন্দিরে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহাম্মদ হোসেন ভূঁইয়া, উপপরিচালক (উপসচিব), স্থানীয় সরকার। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি)গাজীপুর, এস এম শফিকুল ইসলাম উপ-পুলিশ কমিশনার ( অপরাধ উত্তর বিভাগ) জিএমপি। ড,সাবরিনা মোহনা মেডিকেল অফিসার, সিভিল সার্জন কার্যালয় গাজীপুর।


এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন,এমদাদুল ইসলাম মিঠুন,উপপরিচালক, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গাজীপুর। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন মাদকের ভয়াবহতা রোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সচেতনতা সৃষ্টি, পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই একটি মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী লিফলেট বিতরণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং জুমার খুতবায় মাদকের ভয়াবহ কুফল তুলে ধরতে ইমামদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আরও বলেন, মাদকের অপব্যবহার রোধে প্রতিটি পরিবারের অভিভাবকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকপাচার প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ জনগণকেও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে হবে। সন্তানদের মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে তাদের চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও সার্বিক কর্মকাণ্ডের ওপর অভিভাবকদের নিয়মিত নজরদারি রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


বক্তারা বলেন, একজন ব্যক্তি মাদকে আসক্ত হয়ে পড়লে তার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, জুয়াসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের উল্লেখযোগ্য অংশই মাদকাসক্ত। তাই মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।


অনুষ্ঠান শেষে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.