‎ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও প্রতিবাদের মুখে নড়েচড়ে বসল উপজেলা প্রশাসন

‎ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও প্রতিবাদের মুখে নড়েচড়ে বসল উপজেলা প্রশাসন

মাহমুদুল হাসান চন্দন:

‎ভেড়ামারায় রেলওয়ের পুকুর ভরাট করে অবৈধ দখল সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের তাদের টানা বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবাদ ও সংবাদ প্রচারের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের লাল পতাকা টাঙিয়ে উদ্ধার।

‎কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা রেলওয়ে স্টেশনের পেছনে অবস্থিত সরকারি রেলওয়ের একটি পুকুর ভরাট করে অবৈধভাবে দোকান ঘর নির্মাণ ও জমি দখলের মহোৎসবের খবর পাওয়া গেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় এক সাহসী সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত নির্যাতন চালিয়েছে দখলদার চক্র। তবে চরম নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখেও দমে যাননি স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাদের টানা বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবাদ ও সংবাদ প্রচারের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসন ২৪ জুন বিকেলে উক্ত স্থানে অভিযান চালিয়ে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়ে সকল অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভেড়ামারা রেলওয়ে স্টেশনের পেছনের ওই সরকারি পুকুরটি একটি প্রভাবশালী মহল বালু দিয়ে ভরাট করে আসছিল। পুকুরটি সম্পূর্ণ ভরাট করে সেখানে অবৈধভাবে পাকা দোকান ঘর নির্মাণ ও রেলের মূল্যবান জমি রাতারাতি দখল করে নেওয়ার একটি উৎসব চলছিল। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাকারী এই জলাশয়টি রক্ষায় স্থানীয় সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে তথ্য ও ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেন।

‎সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অবৈধ দখলদার সিন্ডিকেট। তারা সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে শারীরিকভাবে প্রচণ্ড নির্যাতন ও নিপীড়ন করে। সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতেই এই ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ একজোট হয়ে আরও জোরালোভাবে সংবাদ প্রচার অব্যাহত রাখেন।

‎সাংবাদিকদের এই সাহসী ও ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে অবশেষে টনক নড়ে ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনের। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পুকুর ভরাট ও অবৈধ দোকান নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। একই সাথে জমিটি যে সরকারি সম্পত্তি, তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকা জুড়ে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি সম্পদ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। একই সাথে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও সত্য তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে সাংবাদিকের ওপর হামলাকারী চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.