
প্রতিবেদক মোঃ রাকিব হোসেন
ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকের ‘বজরা বাজারের জাকির’ চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেলের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভিডিওটি কীভাবে ধারণ করা হয়েছিল, কার মাধ্যমে এটি প্রকাশ্যে এলো এবং কীভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো সামনে আসেনি। এদিকে গণমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন পাভেল। সময় সংবাদকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “ভিডিওতে থাকা ওই নারী আমার বান্ধবী, এর বাইরে আমাদের অন্য কোনো সম্পর্ক নেই।”
ঘটনাটি ঘিরে মূল প্রশ্ন উঠছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ভিডিও ফাঁসের দায় নিয়ে। দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরের কোনো ভিডিও যদি তাদের সম্মতিতে ধারণ করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায় কার—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।
আইনি দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ২(গ) ধারায় পর্নোগ্রাফির সংজ্ঞায় যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী অশ্লীল অভিনয় বা অঙ্গভঙ্গিসহ ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য উপাদানের কথা বলা হয়েছে। একই আইনের ৮ ধারায় পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, ধারণ এবং ইন্টারনেট বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সরবরাহের বিষয়ে পৃথক শাস্তির বিধান রয়েছে।
তবে কোনো ব্যক্তিগত ভিডিও দেখেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ভিডিওটি কীভাবে তৈরি হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মতি ছিল কি না, কে এটি প্রকাশ করেছে এবং আইনে বর্ণিত অপরাধের উপাদানগুলো ঘটনার সঙ্গে মেলে কি না—এসব বিষয় তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
অন্যদিকে, সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২(র) ধারায় ‘রিভেঞ্জ পর্ণ’-এর সংজ্ঞায় কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তার অন্তরঙ্গ বা ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা অনুরূপ উপাত্ত ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে প্রযুক্তির মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই আইনের ২৫ ধারায় এ ধরনের ক্ষতিকর উপাত্ত ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচারের বিষয়ে অপরাধের বিধান রয়েছে।
ফলে পাভেলের ভিডিওটি যদি তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে ভিডিওটি প্রথম কোথা থেকে প্রকাশ্যে এসেছে, কারা এটি ছড়িয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বের করা জরুরি।
পাভেল-কাণ্ড তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরালের ঘটনা নয়; এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সম্মতি, ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যক্তিগত কনটেন্টের সুরক্ষা এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
সবশেষে প্রশ্ন থেকে যায়—ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও কীভাবে প্রকাশ্যে এলো এবং এর ফাঁসের দায় কার? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং অনুমতি ছাড়া ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply