নজমুল হক,স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর
একটি আধুনিক ও উচ্চশিক্ষার জন্য আদর্শ বিদ্যাপীঠের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্ববোধ এবং কর্মতৎপরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল (বুধবার) দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি প্রধানত দুটি পর্বে বিভক্ত ছিল—উদ্বোধনী পর্ব ও টেকনিক্যাল সেশন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। আইকিউএসি-র পরিচালক প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইকিউএসি-র অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান।
শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে নিরাপত্তা কর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাদের সচেতনতা ও পেশাদারিত্বই পারে একটি ক্যাম্পাসকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষা কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য নিরাপদ পরিবেশ অপরিহার্য। নিরাপত্তা রক্ষীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর। আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কেবল পাহারা দেওয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নির্ভয় পরিবেশ নিশ্চিত করা।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমান যুগে কেবল শারীরিক সক্ষমতা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মানবিক আচরণ।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে শুরু হয় কারিগরি বা টেকনিক্যাল সেশন। এই পর্বে প্রশিক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং রেজিস্ট্রার মোঃ আবদুল্লাহ্ মৃধা।
এই সেশনে প্রধানত পাঁচটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়: নিরাপত্তা কর্মীদের দৈনন্দিন কাজের রূপরেখা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার কৌশল।আগুন লাগা, বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা।দাপ্তরিক নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয়ের পদ্ধতি।শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল ও পেশাদার হওয়ার প্রয়োজনীয়তা।সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ ও আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রাথমিক ধারণা।
রেজিস্ট্রার মোঃ আবদুল্লাহ্ মৃধা তার বক্তব্যে বলেন, “নিরাপত্তা কর্মীরা যেন সাধারণ মানুষের কাছে ভীতির কারণ না হয়ে আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন, সেই লক্ষ্যেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন।” অন্যদিকে প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় তাৎক্ষণিক আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রশিক্ষণের সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের কর্মসূচি নিরাপত্তা কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে। অংশগ্রহণকারী কর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই প্রশিক্ষণ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তারা এখন অনেক বেশি সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগটি কেবল একটি রুটিন মাফিক কাজ নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি এটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। পরিশেষে, একটি নিরাপদ ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই গাকৃবি তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

Leave a Reply