সৌদি আরবের জেদ্দায় ৮.৫ কেজি শাবু মাদকসহ ৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, কঠোর শাস্তির বিধান

সৌদি আরবের জেদ্দায় ৮.৫ কেজি শাবু মাদকসহ ৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, কঠোর শাস্তির বিধান

প্রতিবেদক: মোঃ রাকিব হোসেন, সৌদি আরব

সৌদি আরবের বন্দরনগরী জেদ্দায় ৮.৫ কেজি মেথামফেটামিনজাতীয় মাদক ‘শাবু’ বিতরণের অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে পাবলিক প্রসিকিউশনে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি সংবাদমাধ্যম।
সৌদি সংবাদমাধ্যম সাবক-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। একই ঘটনার খবর আরবি ও ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।


জেদ্দায় ৮.৫ কেজি শাবু জব্দ
সৌদি আরবের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঘোষণার বরাতে সাবক জানায়, জেদ্দায় মাদক প্রচারের অভিযোগে চারজন পুরুষ ও একজন বাংলাদেশি নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ৮.৫ কেজি মেথামফেটামিনজাতীয় মাদক ‘শাবু’ জব্দের কথা জানানো হয়।
মেথামফেটামিন একটি শক্তিশালী ও আসক্তি সৃষ্টিকারী মাদক। এর অবৈধ উৎপাদন, পরিবহন ও বিতরণ ব্যক্তি এবং সমাজের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আটক করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর পাবলিক প্রসিকিউশনে পাঠানো হয়েছে। তবে তাঁদের নাম, বয়স, পেশা এবং জেদ্দার কোন এলাকায় অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।


রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলেও মাদকবিরোধী অভিযান
একই ঘোষণায় সৌদি আরবের অন্যান্য অঞ্চলে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদ অঞ্চলে ৫.৪ কেজি হাশিশ রাখার অভিযোগে একজন সৌদি নাগরিক ও একজন ইয়েমেনি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলে হাশিশ ও মেথামফেটামিনসংক্রান্ত অভিযোগে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
সৌদি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাঁদের পাবলিক প্রসিকিউশনে পাঠানো হয়েছে।


অপরাধ প্রমাণিত হলে কী শাস্তি হতে পারে?
সৌদি আরবে মাদক পাচার ও অবৈধভাবে বিতরণ গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, মাদক চোরাচালান ও মাদক ব্যবসার অপরাধের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা অনুসারে শাস্তি নির্ধারিত হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবার মাদক ব্যবসার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদণ্ড, বেত্রাঘাত বা আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে। পুনরাবৃত্ত অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে; নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে।তবে জেদ্দার এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন নির্দিষ্ট আইনি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কী শাস্তি হতে পারে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।


প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীদের দেশটির আইন মেনে চলা এবং মাদক পরিবহন, সংরক্ষণ, বিক্রি কিংবা বিতরণসংক্রান্ত যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা জরুরি। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।মাদক পাচার বা অবৈধ মাদক ব্যবসাসংক্রান্ত তথ্য জানাতে সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চল, মদিনা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ নম্বর এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ৯৯৫ নম্বরেও তথ্য দেওয়া যায়। এ ছাড়া 995@gdnc.gov.sa ঠিকানায় ই-মেইল পাঠানো যায় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.