
গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরে পাইকারী মার্কেটে চাঁদা দাবীর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা এ ঘটনায় চাঁদাবাজ মোঃ জুয়েল আহমেদ‘কে গ্রেফতার করেছে পিবিআই| গ্রেফতারের পর তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ¯স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে| গত ০৬/১০/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.১৯ ঘটিকার সময় বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা সাকিনস্থ হাজী আব্দুর রহিম পাইকারী মার্কেটে বাদী অবস্থান করাকালে অজ্ঞাতনামা আসামী বাদীর ব্যবহৃত মোবাইল এ ফোন দিয়ে বাদীর নিকট ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবী করে| বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আসামী তার সহযোগী আসামীদের সহায়তায় বাদীপক্ষের হাজী আব্দুর রহিম পাইকারী মার্কেট পুড়িয়ে ফেলাসহ সুযোগ পেলে বাদীকে খুন জখম করবে মর্মে হুমকি প্রদান করে| এমতাবস্থায় অজ্ঞাতনামা আসামীরা হাজী আব্দুর রহিম পাইকারী কাপড়ের মার্কেটে যে কোনো সময় আগুন দিয়ে ক্ষতি সাধন করতে পারে মর্মে বাদী আশংকা প্রকাশ করছে| উক্ত ঘটনায় মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিলটন হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞানামা আসামীদের বিরুদ্ধে জিএমপি বাসন থানার মামলা নং-১০ তারিখ-০৬/১০/২০২৬ খ্রিঃ ধারা-৩৮৫/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড মামলা দায়ের করেন|
উল্লেখ্য যে, গত ২৫/১২/২০২২ তারিখ উক্ত মার্কেটটিতে অগ্নিকান্ডে ভষ্মীভূত হয় এবং প্রায় সম্পূর্ণ মার্কেটটি পুড়ে প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকার মালামাল, নগদ টাকা ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়| আসামী উক্ত অগ্নিকান্ডের কথা টেলিফোনে স্মরণ করিয়ে বাদীকে হুমকি দিয়ে বলে এরপর এ ধরনের অগ্নিকান্ড হলে এর চেয়েও বেশী ক্ষতি হতে পারে| তাই অগ্নিকান্ডের হুমকি ও চাঁদাবাজীর ঘটনাকে অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে পিবিআই গাজীপুর জেলার একটি ক্রাইমসিন টিম আমলে নিয়ে শুরু থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করে| মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ইং ১২/১০/২০২৬ তারিখ স্ব-উদ্দ্যোগে মামলাটি অধিগ্রহন করা হয়| বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ সোহেল রানা মামলাটি তদন্ত করছেন| পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার জনাব রকিবুল আক্তার.পিপিএম-সেবা এর তত্ত্বাবধানে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ সোহেল রানা এর নেতৃত্বে পিবিআই গাজীপুর জেলার বিশেষ তদন্ত টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক চাঁদাবাজ মোঃ জুয়েল আহমেদ (২৬) কে ইং ১২/১০/২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত ০০.৫০ ঘটিকায় জিএমপি, গাজীপুর এর বাসন থানাধীন দিঘীরচালা এলাকা হতে গ্রেফতার করে ইং ১২/১০/২০২৬ তারিখ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে উক্ত আসামী বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে|পিবিআই এর তদন্তে জানা যায়, আসামী মোঃ জুয়েল আহমেদ (২৬), পিতা-সাদা মিয়া, মাতা-জমিলা বেগম, সাং-কাঠারবিল, থানা-দেওয়াগঞ্জ, জেলা-জামালপুর বিগত সাড়ে পাঁচ বছর গার্মেন্টস এ চাকুরী করে আসছিল| ইতিমধ্যে সে ক্যাসিনোতে জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ে| জুয়া খেলার কারনে আসামী গার্মেন্টস ও এলাকার বিভিন্ন ব্যাক্তির নিকট হতে ৩,০০,০০০/-(তিন লক্ষ) টাকা ঋণ করে| সেই কারনে আসামী মামলার ঘটনাস্থল আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটের সামনের সাইনবোর্ড থেকে ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে ফোন করে বাদীর নিকট ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবী করে| চাঁদা না দিলে তাঁর মার্কেটে আগুন ধরিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়| বাদী ভয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকাশের মাধ্যমে আসামীকে ৩,০০০ (তিন হাজার) টাকা দেয়| আসামী আবারও আসামী টাকা দাবী করলে গত শনিবারে ২,০০০ (দুই হাজার) টাকা দেয় এবং সোমবারে আসামীকে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা দেয়ার কথা ছিল|
এ বিষয়ে পিবিআই, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার.পিপিএম-সেবা বলেন,”আসন্ন শীতের শুষ্ক মৌসুম, তাই অগ্নিকান্ড জিনত আকস্মিক দূর্ঘটনা রোধে প্রতিটি মার্কেটে এবং জনসমাগম স্থলে সর্তকতা মুলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত| তাছাড়া এই ধরনের চাঁদাবাজী প্রতিহত করতে মার্কেট সম্মুখে সিসি টিভি স্থাপন, প্রহরী নিয়োগসহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করতে হবে| এছাড়াও অনলাইনে গ্যাম্বলিং, ক্যাসিনো ও প্রচলিত জুয়া খেলার নেশা থেকে বের হয়ে আসার জন্য সমšি^ত সমাজতাত্বিক গবেষনা, রাষ্টীয়, প্রতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি কেন্দ্রিক উদ্যোগ ও তা নিয়মিত জারি রাখা জরুরী| একটি সফল অভিযানের মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে| এতে যেমন চাঁদাবাজীর মতো একটা ঘৃন্য অপরাধকে আটকিয়ে দেয়া গেছে, একই সাথে একটি সম্ভব্য নাশকতাকেও রুখে দেওয়া গিয়েছে| এই ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে|

Leave a Reply