শ্রীপুরে বাড়িতে ঢুকে মা-ছেলেকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, বিবাদী পক্ষের দাবি ‘টর্চ লাইটের আঘাত’

শ্রীপুরে বাড়িতে ঢুকে মা-ছেলেকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, বিবাদী পক্ষের দাবি ‘টর্চ লাইটের আঘাত’



‎​আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি


‎গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে মোছাঃ কল্পনা আক্তার ও তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলে মোঃ সিয়ামকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে বিবাদী পক্ষ এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছে।

‎​থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে ২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:০০ ঘটিকার সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিবাদী মোঃ বিল্লাল ওরফে হৃদয় (২৭), মোঃ রফিকুল ইসলাম রবি (৪০) ও মোঃ জলিল (৪৫) সহ অজ্ঞাতনামা ৫ জন দা, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে কল্পনা আক্তারের বাড়িতে হামলা চালায়।

‎​অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১নং বিবাদী বিল্লাল তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে সিয়ামের মাথার উপরিভাগে কোপ মারে এবং অন্যান্য বিবাদীরা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মা কল্পনা আক্তারও আহত হন। এছাড়া হামলার সময় তাঁর পরিহিত কাপড় টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি এবং গলার স্বর্ণের চেইন ছিনতাই করা হয়েছে বলেও এজাহারে দাবি করা হয়।

‎​হাসপাতালের নথিতে ‘পুলিশ কেস’ ও ভর্তির প্রমাণ
‎​অনুসন্ধানে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের টিকিট এবং রোগী ভর্তির ফরম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ঘটনার দিন অর্থাৎ ২৫ মে ২০২৬ ইং তারিখেই গুরুতর আহত সিয়ামকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগের টিকিটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নীল কালিতে বড় অক্ষরে “পুলিশ কেস” সিল মেরে ঘটনাটি নথিভুক্ত করে এবং রোগের বিবরণে চিকিৎসকরা শারীরিক নির্যাতনের ইতিহাস উল্লেখ করেন।

‎​পরদিন ২৬ মে সকাল ১১:৪০ মিনিটে তাকে আশঙ্কাজনক ও তীব্র শারীরিক দুর্বলতা সহ মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
‎​মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যানে গুরুতর রক্তক্ষরণের প্রমাণ
‎​আহত শিশু সিয়ামের মাথার সিটি স্ক্যান (CT Scan of Brain) ফিল্ম ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের ফলে তার মস্তিষ্কের ভেতরে গুরুতর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং রক্ত জমাট বেঁধেছে (Hematoma)।

‎​চিকিৎসকদের মতে, মাথায় কোনো ভারী বস্তু বা ধারালো অস্ত্রের জোরালো ও সরাসরি আঘাত ছাড়া ভেতরের অংশে এ ধরনের রক্তক্ষরণ হওয়া সাধারণত সম্ভব নয়। এই রিপোর্টটি ভুক্তভোগী পরিবারের করা কুপিয়ে জখম করার দাবির সপক্ষে একটি বড় চিকিৎসাগত প্রমাণ।
‎​
‎​এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ৪নং বিবাদী মোছাঃ জরিনা সাংবাদিকদের কাছে ভিন্ন দাবি করেন। তিনি কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ঘটনার দিন সিয়াম তার নিজের দাদি মনোয়ারাকে মারধর করতে থাকে। তা দেখে মনোয়ারার বোন জরিনার ছেলে (বা জরিনার বোনের ছেলে) বিল্লাল ওরফে হৃদয় সেখানে গিয়ে সিয়ামকে শাসন করার চেষ্টা করে এবং জুতা পেটা করে।

‎​এতে সিয়ামের মা কল্পনা, ভাই এবং বাবা মনির হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে বিল্লালের দিকে লাঠি নিয়ে তেড়ে আসেন এবং তাঁর সাথে সিয়ামও যোগ দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির সৃষ্টি হলে আত্মরক্ষার্থে বিল্লালের হাতে থাকা টর্চ লাইটের আঘাতে সিয়ামের মাথা ফেটে যায়। ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে জখম বা স্বর্ণালঙ্কার লুটের দাবিটি সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট বলে তারা দাবি করেন।
‎​
‎​এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ জানায়, মারধর ও জখমের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ এবং পাল্টা দাবির বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.